আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের সেই ব্যস্ত রাস্তা-যে পথে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় মানুষের জীবনযাত্রা, সন্ধ্যায় ফেরে ক্লান্ত প্রাণেরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) রাতটা ছিল ভিন্ন।
সেই রাস্তাতেই ছড়িয়ে পড়ল রক্ত, ছিন্ন ধাতুর গন্ধ আর মানুষের আর্তনাদ।
রাত প্রায় ১০টার দিকে ১২নং চরশাহী ইউনিয়নের বসুরহাট বাজার সংলগ্ন টক্কাপুল দুলা মিয়ার বাড়ির সামনে সংঘর্ষ হয় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকসার। এক মুহূর্তেই দু’টি যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। হঠাৎ করেই নিস্তব্ধ রাত ভেঙে ওঠে করুণ চিৎকারে।
আহত হন অন্তত ছয়জন। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। কেউ রক্ত থামাতে কাপড় চেপে ধরছেন, কেউ ফোনে চিৎকার করে ডাকছেন আত্মীয়দের-দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকো!
রাতের অন্ধকারে, হেডলাইটের আলো আর মানুষের আতঙ্কে টক্কাপুল মুহূর্তেই যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আহতদের দ্রুত নোয়াখালীর মাইজদী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের করিডরে কান্নার শব্দ, উদ্বেগ আর অসহায়তার মিশ্র চিত্র যেন পুরো দুর্ঘটনার মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয়দের ক্ষোভও কম নয়। তারা বলছেন-টক্কাপুল এলাকায় দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
এই রাস্তা যেন মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে গেছে,- স্থানীয়রা বলেন প্রতিদিনই কেউ না কেউ রক্ত দিচ্ছে এই রাস্তায়।
বাঁকানো রাস্তা, আলোর অভাব, দ্রুতগতির যানবাহন- সব মিলিয়ে এখানে যেন বিপদের ঘনঘটা। কিন্তু তবুও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়ে গেছে আগের মতোই।
সড়কে জীবনের মূল্য এত সস্তা হতে পারে না। প্রতিবারই দুর্ঘটনার পর আলোচনা হয়, কিন্তু বাস্তব কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
রক্তে ভেজা টক্কাপুল আজ শুধু একটি দুর্ঘটনার স্থান নয়; এটি এক সতর্কবার্তা-
যেখানে গতি নিয়ন্ত্রণ হারায়, সেখানেই থেমে যায় জীবন।
