লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ডে একজন গ্রেপ্তার

আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর ফজলে রাব্বি বাবু (২১) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ সেফটি ট্যাংকি থেকে উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহেদ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর এবং নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু নিখোঁজ হন। পরদিন ১৮ জানুয়ারি তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৩১) করেন।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা’র তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে মো. শাহেদ এবং মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় চন্দ্রগঞ্জ এলাকার কিরণ নামে এক ব্যক্তির বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি থেকে নিহত বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বাবুকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুম করা হয় এবং তার মোটরসাইকেল আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মোটরসাইকেলটি ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওমর ফারুককে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি ৬৫ হাজার টাকায় রাকিব নামে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শাহেদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর এবং আংশিক পোড়ানো একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।
অপর অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
(ঘটনাস্থল: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন এলাকা। তদন্তকারী কর্মকর্তা: চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি।)

শেয়ার এবং ফলো করুন: