লক্ষ্মীপুরে ‘স্বঘোষিত’শ্রমিক দলের সভাপতি প্রার্থী রাজনকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে চন্দ্রগঞ্জে গণস্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে থানা শ্রমিকদলের সভাপতি পদপ্রার্থী মনির আহম্মদ রাজনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার এসব বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
৪ মার্চ বৃহস্পতিবার চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের সদস্য আল আমিনকে মারধর ও হেনস্থার অভিযোগে চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের সভাপতি এনায়েত উল্লার মধ্যোস্থতায় বৈঠকে ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন সবুজের সাথে উগ্র আচরণের অভিযোগে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাকে দলীয় পদ পদবী থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট গণস্বাক্ষর সুপারিশ নামা প্রেরণ করেন।

মনির আহম্মদ রাজন ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি স্বঘোষিত চন্দ্রগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি প্রার্থী নেই জেলা শ্রমিক দলের সদস্য পদ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড,জোরপূর্বক জমি দখল এবং শালিস বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন,গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক রিংকুকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন রাজন। এমনকি রিংকুর ব্যবহৃত সুজুকি এসএফ মোটরসাইকেল তিনি ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে এবং এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এলাকায় নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যা দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দলীয় ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশেষ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিপর্যয়ের পেছনে তার অপকর্ম ও বিতর্কিত ভূমিকা দায়ী বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনির আহম্মদ রাজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের হুমকি-ধামকি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বেপরোয়া অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি (প্রয়াত) মাইন উদ্দিন হামিম, জেলা শ্রমিকদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হান্নান ভুঁইয়া, চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্ল্যা, শ্রমিকদল নেতা আবুল কাশেম এবং যুবদল নেতা আল আমিনসহ একাধিক নেতাকর্মীর ওপর নগ্ন হামলা ও অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মনির আহম্মদ রাজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার এবং ফলো করুন: