রাজনৈতিক সহকর্মী সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য রেজাউল করীম লিটন এর বার্তা
প্রিয় সহকর্মী সহযোদ্ধা বন্ধুগণ,আসসালামু আলাইকুম, সংগ্রামী শুভেচ্ছা রইল। আপনারা সবাই অবগত আছেন আমি লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের আহবায়ক পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করেছি। এই পদত্যাগ কোন বেদনার নয়। এই পদত্যাগ হচ্ছে আমার কাছে রাজনীতির পদোন্নতির প্রত্যাশা।
দীর্ঘ সময় ধরে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, দুই দুইবার সভাপতি সর্বশেষ আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জীবনে সেরা সময়গুলো কেটেছে এই সংগঠনের পাশে থেকে, আপনাদেরকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে এবং তৃণমূল পর্যায়ের যুবদলকে সুসংগঠিত করতে। এই দীর্ঘ পথ চলায় আমি আপনাদের সবার কাছ থেকে যে সমর্থন, সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার পদত্যাগের কারণ কারো অজানা নয়। আপনাদের সবারই মনে আছে, আমি দলের কান্তিকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আগামীর রাজনীতির জন্য লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অন্তর্গত ১৫ টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীর সমর্থন নিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
যুবদলের নেতৃত্ব ছাড়ার ইচ্ছে ছিল আমার অনেক আগেই কিন্তু বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় নেতৃত্বের প্রয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও বিএনপি যুগ্ন মহাসচিব, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক জননেতা জনাব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ভাই, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, সাবেক মেয়র জননেতা জনাব সাহাব উদ্দিন সাবু ভাই ও যুগ্ম আহবায়ক জননেতা এডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব ভাইয়ের নির্দেশনায় সর্বোপরি হাজার হাজার কর্মীদের ভালোবাসার কাছে হার মেনে বার বার যুবদলের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানারে স্কুল জীবন থেকে শুরু করে আজ অবধি আমি সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করেছি। বিগত ৩৮ বছর ধরে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সাধ্যমতো পালন করতে সচেষ্ট থেকেছি।
আমি মনে করি যার নীতি আদর্শ অটুট আছে এবং দলের সব পর্যায়ের কর্মীরা যাকে নেতা মানে সে ব্যক্তি নেতা। নেতা হওয়ার জন্য পদ লাগেনা আবার সংগঠন কে শক্তিশালী করার জন্য সঠিক ব্যক্তিকে উপযুক্ত পদ দিতে হয়। দলীয় পথ যে কোন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য সবচেয়ে মূল্যবান অনুভূতি।
আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকবো। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করব।
পরিশেষে একটি বিষয় বলা আমার দায়িত্ব মনে করছি। গত ১৭ বছর যুবদলের আপনারা অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় যে এই কঠিন ও বৈরী সময়ে ব্যাপক কষ্ট এবং অসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে যুবদলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী সাহসিকতার সাথে রাজপথে ছিলেন। আমার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দলীয় কার্যক্রম করে গেছেন এর জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকলাম। আমি পদত্যাগ করার পর যারা আমার পাশে ছিলেন, সাহস যুগিয়েছেন, মনোবল দিয়েছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
আগামী দিনের জন্য আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমার একমাত্র শক্তি। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
শুভেচ্ছান্তে,
রেজাউল করিম লিটন,
সাবেক আহ্বায়ক,
জাতীয়তাবাদী যুবদল,
লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা।
