হ্যাঁ,আমি ভালো আছি—কষ্টের মাঝেও হাসিমুখে বলতে হয় প্রবাসীদের

প্রবাসীদের ঈদ মানে মনে শত কষ্ট নিয়েও ‘হ্যাঁ, আমি ভালো আছি’ বলা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা সত্যিই অন্য রকম আনন্দের। কিন্তু সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন প্রবাসীরা। দেশে ঈদ উদযাপন করা আর প্রবাসে উদযাপনের তফাত অনেক।

কিন্তু পরিবারের হাল ধরতে এমন পরিস্থিতিকে মেনে নেন প্রবাসীরা।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ—এ কথা সবাই মানলেও প্রবাসীদের জীবনে এর বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া যায় না। সচ্ছল হওয়ার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান তারা। এ কারণে জীবনের অনেক স্বাদ-আহ্লাদ ত্যাগ করেন তারা।

গত চার বছর যাবৎ সৌদি আরবে জেদ্দা শহরে আছেন লক্ষ্মীপুরের আরমান হোসেন। দেশের বাড়িতে বাবা-মা ও স্ত্রী সন্তান রেখে পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদিতে যান তিনি। আজ সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। তবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারার কষ্টের কথা বলেছেন তিনি।

আরমান হোসেন বলেন, নিরুপায় হয়ে পরিবার থেকে দূরে সৌদি আরবে বসে ঈদ করতে হচ্ছে। এ রকম ঈদে কোনো আনন্দ নেই, বরং বিশেষ দিনগুলো কষ্টের হয়ে আসে। কারণ বিশেষ দিনগুলোতে বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদের কথা বেশি মনে পড়ে। আজও তাই হয়েছে। সকালে ঈদের নামাজ পড়ে আসার পর দেশের বাড়িতে থাকা বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানের কথা খুব মনে পড়ছিল।

তারপর ফোনে ভিডিও কলে কথা বলে কিছুটা শান্তি পেয়েছি। তবে মায়ের হাতে গরুর গোস্ত রান্না খুব মিস করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রবাসীদের ঈদ কাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভার্জুয়ালি কথা বলা আর ঘুমিয়ে। এর বাইরে তেমন আনন্দ থাকে না।

সৌদি আরবে থাকা কুমিল্লার কাউসার বলেন, ‘আমার সবই আছে, শুধু সময়টাই নেই। ঈদের দিন সময় বের করে বাংলাদেশের আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। শুধু এতটুকুই। সময় বড়ই নিষ্ঠুর, ইচ্ছে করলেই সব কিছু হয় না।

বাড়িতে কথা বলার সময় কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। যখন ফোনের ওপাশ থেকে মা বলেন—কেমন আছিস, তখন চাপা কষ্টে বলতে হয় ভালো আছি মা। আমাদের প্রত্যেকটা ঈদ চাপা কষ্ট নিয়েই কেটে যায়। তবে যখন শুনি পরিবারের সদস্যরা ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করছে,আমার টাকায় কোরবানি হচ্ছে তখন ভালোই লাগে। আসলে প্রবাসীদের জীবনে ঈদ আছে কিন্তু আনন্দ নেই।

শেয়ার এবং ফলো করুন: