আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুর:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের দাপটে সাধারণ ভোটারদের মাঝে বেড়েছে নিরাপত্তা হীনতার শঙ্কা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ চলাচলের খবরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্বিগ্ন বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরাও।
সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান জোরদারের দাবি ওঠে। সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার,সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক মদদে কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। রাত নামলেই সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা,রায়পুর উপজেলা, রামগঞ্জ উপজেলা ও মেঘনা উপকূলীয় রামগতির চরাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাঁড়াশি অভিযানের তাগিদ দেয়া হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়,জেলায় বর্তমানে অন্তত ২০টিরও বেশি সন্ত্রাসী বাহিনী ও উপবাহিনী সক্রিয়,যাদের হাতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান,দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরাও প্রকাশ্যে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এতে সাধারণ ভোটার,শিশু,সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত ১ ডিসেম্বর পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার, ৭ ডিসেম্বর বেগমগঞ্জ থেকে ৫টি রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার, ১২ ডিসেম্বর বিরাহিমপুর এলাকা থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬টি কার্তুজ,চন্দ্রগঞ্জ এলাকা থেকে বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর ৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন,নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অত্যান্ত জরুরী,একটি অদৃশ্য শক্তি নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর ৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ড.রেজাউল করিম বলেন,অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনপূর্ব সময়ে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অতিব জরুরি।
এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক জানান,আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার অভিযান চলমান রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন,উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চললেও জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৫৯৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং সবগুলো ভোট কেন্দ্রেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
”নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে,ততই লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রত্যাশা-আতঙ্ক নয়, নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা।
জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,লক্ষ্মীপুরে এবার মোট ভোটারের মধ্যে ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৩ জন পুরুষ এবং ১২ লাখ ২৬ হাজার ৪১৬ জন নারী। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১১ জন। এবারের নির্বাচনে চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
