১২ নং চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে

আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুরঃ: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপি’র কাউন্সিল নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে। বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ভোটারদের মন জয় করতে।

সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, চা-স্টল এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। একে অপরের চেয়ে নিজেদের যোগ্য,দক্ষ ও ত্যাগী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা।

প্রবীন এবং নবীনের নেতৃত্ব নির্বাচনের এ সুযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন পর গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই উদ্যোগ তৃণমূল রাজনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনবে।

তবে ভোটারদের প্রত্যাশা,নেতৃত্বে যেনো প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত দুঃসময়ের সহকর্মীরাই আসে—যারা দলের সংকটকালে পাশে ছিলেন একসাথে আন্দোলন সংগ্রামে,সুবিধার সময় নয়।

এ বিষয়ে এক প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী বলেন,
“আমরা দেখেছি—কে দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিল, আর কে শুধু পদ-পদবির আশায় এখন মাঠে নামছে। কাজেই এবার ভোটটা চিন্তা-ভাবনা করেই দিতে হবে।”

চরশাহী ইউনিয়নের বিএনপির কাউন্সিল নির্বাচন ২৫ জুন ২০২৫ ইং।

চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের নতুন জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্ব বাছাই হতে যাচ্ছে—এমন খবরে দলের নেতা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি আর প্রতিযোগিতা
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে। কেউ বলছেন,
“আমি নির্বাচিত হলে তৃণমূলের দাবি আদায়েই কাজ করব,”
আবার কেউ বলছেন,
“দলকে আন্দোলন ও সংগ্রামে সংঘবদ্ধ করতে আগামীর নেতৃত্ব প্রয়োজন তাই ভোটের মাধ্যমে সঠিক এবং দক্ষ নেতা নির্বাচিত করতে হবে।

প্রার্থীদের মধ্যে কেউ সাবেক ছাত্রদলের নেতা, যুবদল , স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপির মূল দলের দায়িত্বশীল ছিলেন কেউ ইউনিয়নের ত্যাগী বিএনপি কর্মী,আবার কেউ বিগত আন্দোলনে কারাবরণকারী। কেউ কেউ আগে পদে ছিলেন,কেউ পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে এবার নতুন করে সামনে আসছেন।

ভোটারদের সচেতনতা
এদিকে সাধারণ ভোটাররাও এবার অনেক বেশি সচেতন। অনেকেই মুখে মুখে বলছেন—
“পরীক্ষিত আর ত্যাগী লোকদেরই এবার ভোট দেব। যারা শুধু সুবিধার সময় আসে,তাদের দিয়ে সংগঠন চলে না।”
একজন ভোটার বলেন,
“দল যখন দুঃসময়ে ছিল,তখন যারা চুপ করে ছিলেন,এখন তারা এসে নেতৃত্বে আসতে চায়! এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

পরিবর্তনের প্রত্যাশা
অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করবে, যারা ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে ইউনিয়নকে নেতৃত্ব দিতে পারবে। পুরনো ত্যাগীদের মূল্যায়ন এবং বিতর্কিত মুখের চেয়ে ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের নেতাকেই দেখতে চান অনেকে।

নির্বাচনী পরিবেশ
চলমান নির্বাচনী প্রচারে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কে কতটা সংগঠিতভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে,তা থেকেই ভোটাররা অনেকটাই আন্দাজ করছেন,কে কতটা জনপ্রিয়।

১২ নং চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপি’র কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই জন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি খসরুল আলম মাহমুদ চেয়ার মার্কা প্রতীকে ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত হোসেন স্বপন ছাতা মার্কা প্রতীকে।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন তালা মার্কা প্রতীকে, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া মাছ মার্কা প্রতীকে, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন ফুটবল মার্কা প্রতীকে, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি দাউদ চৌধুরী গোলাপ ফুল মার্কা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই জন সাবেক ছাত্রনেতা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ডাঃ ফখরুল ইসলাম কলস মার্কা প্রতীকে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ আরশেদ মাওলা আম মার্কা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১২ নং চরশাহী ইউনিয়নে ৯ টি ওয়ার্ডের ৪৫৯ কাউন্সিলের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক,সাংগঠনিক সম্পাদক তিনটি পদের তিন জনকে নির্বাচিত প্রতিনিধি করবেন।

চরশাহী ইউনিয়নের বিএনপির কাউন্সিল নির্বাচন যেন শুধু একটি দলীয় নির্বাচন নয়—এটি তৃণমূলে সংগঠনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার একটি সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই বিএনপি তাদের শক্তিশালী ঘাঁটিকে আরও মজবুত করতে পারবে। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এবং সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদী।

শেয়ার এবং ফলো করুন: