বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ, লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিএনপির দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।

মঙ্গলবার দুপুরে তালতলী বাজার এলাকায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল হক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে তালতলী থানার ওসি মোহাম্মাদ শাহজালাল জানান।

বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশ জানায়, গত রোববার তালতলী বাজারে এক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল হকের বিরুদ্ধে। সোমবার বাজার কমিটির সভাপতিসহ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এ ঘটনার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে দুপুরে বিএনপি নেতা শহিদুল হকের অনুসারীরা বাজারের ফরাজী মেডিকেলের সামনে মানববন্ধন করেন। এ সময় সেখানে মিছিল নিয়ে হাজির হন বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলম মামুন ও সমর্থকরা। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে নৌ বাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “শহিদুল হক প্রত্যেক রোববার বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। চাঁদা তুলতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ী আবুল কালাম শিকদারকে মারধর করেন। শহিদুল হক আজ তার গ্রাম থেকে কিছু লোকজন এবং আওয়ামী লীগের লোকজন এনে মানববন্ধন করছিলেন। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।”

তালতলী বাজার কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মামুন বলেন, “শহীদুল হকের লোকজন আমার লোকজনের উপর হামলা করেছে। এতে আমার কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদেরকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদুল হক বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য মামুন ও মোস্তাক নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। ওরা আমার নেতাকর্মীদের উপর আজ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”

তালতলী থানার ওসি মোহাম্মাদ শাহজালাল বলেন, “নৌ-বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার এবং ফলো করুন: