চন্দ্রগঞ্জ থেকে সিনিয়র সাংবাদিক কবির আহমদ ফারুক:
যখন দেশে নিশীথে গণতন্ত্র হত্যা করা হচ্ছিল, মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল, মিডিয়া হয়েছিল দালালদের দখলে- তখনই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাই হয়ে উঠেছিলেন এক বিকল্প বিবেক, এক সাহসী প্রতিরোধ।
১. রেমিট্যান্স প্রতিরোধ ছিল ইতিহাসের নজিরবিহীন কৌশল বিশ্বজুড়ে প্রবাসীরা সংগঠিতভাবে রেমিট্যান্স পাঠানো সীমিত করে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন। এই কৌশল শেখ হাসিনা সরকারের অপ্রতিহত ক্ষমতার বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ ভয়াবহ ধাক্কা হয়ে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণও ছিল এই ‘সাংবাদিকতাহীন, গুম-খুন-তাণ্ডবের রাষ্ট্র’কে আর্থিকভাবে বয়কট করা।
২. বিদেশে রাস্তায় রাস্তায়, দূতাবাসের সামনে দিনের পর দিন আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, কাতার, সৌদি আরবসহ নানা দেশে প্রবাসীরা দিনরাত মানববন্ধন, প্রতিবাদ, স্মারকলিপি কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন। এদের মধ্যে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন,কনস্যুলেটের নজরে চিহ্নিত হয়েছেন,এমনকি জেলও খেটেছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোভাবেই ভুলে যেতে পারে না।
৩. বিকল্প গণমাধ্যম গঠন ও তথ্য-প্রতিরোধ
যখন বাংলাদেশের টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকাগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত ‘ডিকটেশন মিডিয়া’ হয়ে ওঠে, তখন প্রবাসী ইউটিউবার, ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট, স্বাধীন সাংবাদিকরাই একটি বিকল্প গণমাধ্যমের ভূমিকা পালন করেন। তারা সরকারের গুম-খুন, দুর্নীতি, স্বৈরাচার ও চক্রান্ত আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেন। জনগণকে সজাগ রাখেন।
৪. আন্তর্জাতিক লবিং ও কূটনৈতিক চাপের পেছনের নিরব নায়ক ইইউ পার্লামেন্ট, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সব জায়গায় যারা তথ্য, প্রমাণ, ডকুমেন্ট দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাব তৈরি করেছেন—তাদের অনেকেই ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি। তাঁরা ছিলেন ‘অদৃশ্য যোদ্ধা’। চায়ের দোকানে নয়, তাঁরা লড়েছেন স্যুট-টাই আর কাগজ-কলম নিয়ে।
অতএব দাবি:
১.জুলাই ঘোষণাপত্র সংশোধন করে ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা’ শিরোনামে একটি পূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করতে হবে।
২. এই ভূমিকা ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের আগেই শুরু হয়েছিল—তাই এই অংশকে ঘোষণাপত্রের কার্যকরী অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
৩. প্রবাসী শহীদ ও কারাবন্দীদের তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান করতে হবে।
৪. একটি ‘প্রবাসী প্রতিরোধ দিবস’ঘোষণা করতে হবে-যেন প্রবাসীদের আত্মত্যাগকে প্রজন্ম মনে রাখে।
