চন্দ্রগঞ্জ থেকে কবির আহমদ ফারুক – বার্তা সময়
লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি-জমার দলিল সম্পাদনে দীর্ঘদিন ধরে গলাকাটা ফির নামে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ হয় না এই অফিসে।
জানা যায়, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্টদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার কৃষক, শ্রমিক, মজুর ও সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত মোটা অঙ্ক ব্যয় করে দলিল সম্পাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অফিসের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ফি আদায়ের তালিকা টানানো থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তালিকায় বিভিন্ন প্রকৃতির দলিলের মধ্যে সাফ-কবলা, হেবা ঘোষণাপত্র, দানপত্র ও বন্ধকী দলিল সম্পাদনের জন্য পৃথক ফি উল্লেখ রয়েছে। তারপরও চন্দ্রগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিবন্ধিত সাবেক বঙ্গবন্ধু দলিল লিখক সমিতি—নাম পরিবর্তন করে কতিপয় প্রভাবশালী দলিল লিখক ও অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে হরিলুট। দলিল নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সাধারণ সেবা-প্রত্যাশীদের পকেট কাটা হচ্ছে প্রকাশ্যে।
দীর্ঘদিন ধরে অনিবন্ধিত সাবেক বঙ্গবন্ধু দলিল লিখক সমিতি—নাম পরিবর্তন করে কিছু প্রভাবশালী দলিল লেখক এবং অফিসের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ সেবা-প্রত্যাশীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অফিসে দলিল নিবন্ধনের জন্য সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী একদল দলিল লিখক ও সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারী মিলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে বাধ্যতামূলক নিয়মে পরিণত করেছে। কারও কাছ থেকে ৫০০ টাকা, কারও কাছ থেকে ১ হাজার টাকা—দলিলের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী ‘টোকেন মানি’ হিসেবে এই টাকা নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী এক জমির ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন,“সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও আমাকে আরও ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি ফাইল আটকে রাখবে বলে হুমকি দেয়।”
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারী জানান,অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি অফিসের ‘ওপেন সিক্রেট’।
আইনজীবীরা বলছেন,দলিল নিবন্ধন আইন ও বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি তদন্তযোগ্য অপরাধ।
এলাকার স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন সাধারণ জনগণের নিকট সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এমন কার্যকলাপে চন্দ্রগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এখন অতিষ্ঠ। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে চন্দ্রগঞ্জবাসী।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাব-রেজিস্টার গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
