মেয়ের মৃত্যুঘাতক বাবা: লক্ষ্মীপুরে মাদকাসক্ত ফারুকের নৃশংস অধ্যায়

আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের তেওয়ারীগঞ্জের শান্ত গ্রামটি আজ স্তব্ধ। নীরবতা যেন চিৎকার করে উঠছে- ৫ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর রক্তে রঞ্জিত উঠোনের দিকে তাকিয়ে কেউই চোখের জল আটকে রাখতে পারছে না।
ফারিহা সুলতানা- মিষ্টি হাসির, প্রাণচঞ্চল একটি শিশু। প্রতিদিন বিকেলে পুকুরঘাটে এসে পাথর ছুঁড়ে খেলত। কিন্তু সোমবার (৬ অক্টোবর) সেই পুকুরই হয়ে গেল তার শেষ ঠিকানা।

ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামে। মাদকাসক্ত যুবক ফারুক হোসেন, এক মুহূর্তের উন্মাদনায় নিজের মেয়েকেই দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন- তারপর নির্মমভাবে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলেন শিশুটিকে।
ফারুক আন্ধারমানিক গ্রামের কাদের মাঝির ছেলে। গ্রামের সবাই জানে, ফারুকের নেশার প্রতি আসক্তি ছিল সীমাহীন। মাঝে মধ্যে কাজ করত, আবার অনেক সময় বেকার ঘুরে বেড়াত। পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো নানা কারণে।

সোমবার সন্ধ্যায়ও এমন এক ঝগড়ার সময় ফারুকের ক্ষোভ উন্মত্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দৃশ্য- যা কল্পনাকেও হার মানায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান বলেন,

বাড়ির লোকজন ৯৯৯-এ ফোন করে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। পরে ঘাতক ফারুককে আটক করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন,

ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা ঘাতককে আটক করেছি। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গ্রামের মানুষ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না- একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানকে এমনভাবে হত্যা করতে পারে! পুকুরপাড়ে এখনো পড়ে আছে শিশুটির খেলনা, ভাঙা চুড়ি আর রক্তে ভেজা মাটির দাগ।

মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। গ্রামের বৃদ্ধা নারীরা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন,

ফারুক আগে মানুষ আছিল, পরে নেশা তারে পাগল বানাইছে!

এই একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও উন্মোচিত হলো মাদকাসক্তির ভয়াবহ রূপ। শুধু একজন শিশুর প্রাণ নয়, হারিয়ে গেল একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, একটি সমাজের শান্তি।

শেষ প্রশ্নটি থেকে যায়-
নেশার আগুনে আর কত ফারিহা পুড়বে,
আর কত বাবার হাতে নিঃশেষ হবে শিশুর হাসি?

শেয়ার এবং ফলো করুন: