আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার ৯নং উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দারা বাড়িতে প্রেমঘটিত কারণে মাইশা (১৫) নামের এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
নিহত মাইশা স্থানীয় বাবুল মিয়ার মেয়ে এবং চৌপল্লী কেরি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাইশার সঙ্গে একই ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকার রিতু নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তারা একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘুরতে যায়। সারাদিন নিখোঁজ থাকায় সন্ধ্যায় মাইশার মা দত্তপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে সন্ধ্যার দিকে মাইশা বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সেদিন সারাদিন রিতুর সঙ্গে ঘুরেছিল। তবে রিতুকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বিষয়টি অস্বীকার করে।
এরপর থেকে মাইশার মা তাকে বাইরে যেতে দেননি। প্রায় ১০ দিন ধরে মেয়েটি বাড়ির ভেতরেই ছিল। এ সময় মাইশা প্রায়ই কান্নাকাটি করত এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাইশা মায়ের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। মায়ের কানব্যথা হওয়ায় তিনি বিশ্রাম নিতে গেলে মাইশা ঘরের কাজ শেষ করে রান্নাঘরে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
পরিবারের সদস্যরা কিছুক্ষণ পর তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রেমঘটিত মানসিক চাপ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য: স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাইশা ছিল শান্ত-ভদ্র স্বভাবের মেয়ে। তবে প্রেমিক রিতুর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী।
