লক্ষ্মীপুরে গ্যাসের কালোবাজারি চরমে! ভোক্তা অধিকারের নুর হোসেন নীরব কেন? জনমনে প্রশ্ন টাকা খেয়ে চুপচাপ?

কবির আহমদ ফারুক ৷ লক্ষ্মীপুর

চলতি জানুয়ারি মাসে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। তবে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বাজারে সেই একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই চলছে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি।

খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের একাধিক বিক্রেতা নির্লজ্জভাবে দাবি করছেন, ‘সব জায়গাতেই তো এমন চলছে, আমাদের কিছু করার নেই।’ এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-সরকারি নির্দেশনা কি শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? আইনের চোখ কি এখানে অন্ধ?

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক বিষয় হলো, এই প্রকাশ্য অনিয়ম চললেও লক্ষ্মীপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। নেই কোনো অভিযান, নেই জরিমানা, নেই বাজার তদারকি। এতে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকদের জোরালো প্রশ্ন- অতিরিক্ত এই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? তাহলে কি বাজার সিন্ডিকেটের কাছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অসহায়?

এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

‘গ্যাস ছাড়া রান্না করা যায় না। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীরবতা বাজারে সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে-লক্ষ্মীপুর জেলা ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা নুর হোসেন কি ‘ম্যানেজ’ হয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন?

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অবিলম্বে বাজার তদারকি জোরদার করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আরও গভীর হবে।

শেয়ার এবং ফলো করুন: