কবির আহমদ ফারুক:
ক্রিকেট-যে খেলাটি আনন্দ,শৈশবের উচ্ছ্বাস আর বন্ধুত্বের প্রতীক হওয়ার কথা, সেই খেলাই যখন বাজির নেশায় জড়িয়ে পড়ে, তখন তা হয়ে ওঠে হিংসা আর মৃত্যুর মঞ্চ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারালেন আরিফ (২৪) নামে এক তরুণ। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বাজি ধরা থেকে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ছুরিকাঘাত ও হত্যাকাণ্ডে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের রুগুরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফ একই ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের বাঞ্ছারাম বাড়ির বাসিন্দা, সিরাজ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার এলাকায় বাজি ধরে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেই বাড়ির পাশের একটি চা দোকানে আরিফকে মারধর করা হয়।
এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ একদল কিশোর ও তরুণ আবারও আরিফের ওপর হামলা চালায়। রুগুরামপুর গ্রামে প্রকাশ্যে তাকে লক্ষ্য করে বুকে ছুরিকাঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই ঘটনায় আরিফের চাচাতো ভাই উমায়ের (২১) ও ওমর (২২) আহত হন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্ক। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ-একটি খেলাকে কেন্দ্র করে বাজি ধরার মতো অনৈতিক কাজ কীভাবে একটি তরুণের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন,
‘বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল-বাজি ধরা শুধু একটি অবৈধ জুয়া নয়, এটি সমাজে সহিংসতা, শত্রুতা ও প্রাণঘাতী অপরাধের জন্ম দেয়। খেলাকে খেলাই রাখতে না পারলে, আনন্দের মাঠই যে রক্তে রঞ্জিত হতে পারে-বেগমগঞ্জের এই হত্যাকাণ্ড তার নির্মম উদাহরণ।
