লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার কীর্তিমান শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসানের মৃত্যু নেই

আল মামুন শিপন লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুর সদর পূর্ব চন্দ্রগঞ্জ থানার ইতিহাস বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সাক্ষী। এই অঞ্চলের তরুণ সমাজ বারবার প্রমাণ করেছে যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম। ঠিক তেমনি এক সাহসী, প্রতিবাদী ও সংগ্রামী ছাত্রনেতা ছিলেন শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসান। ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাষ্টযন্ত্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মৃত্যুকে জয় করে নিয়েছেন সোলায়মান উদ্দিন জিসান এলাকার মানুষের হৃদয়ে লালন করে কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।

⭕ শৈশব ও শিক্ষাজীবন:
শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসান জন্মগ্রহণ করেন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ী, কৌতূহলী ও সমাজ সচেতন দেশপ্রেমিক। লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ইতিহাস সমাজসেবা নিয়ে আগ্রহ ছিল প্রবল।

⭕ ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পণ:
ছাত্রজীবনে বিএনপিপন্থী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এ সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দলীয় আদর্শ, নেতৃত্বগুণ ও সংগ্রামী ভূমিকার কারণে দ্রুত সংগঠনের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনিই ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় ছাত্রদলের এক অনড় কণ্ঠস্বর – যিনি আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

⭕ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও মহাবীরত্ব:
জিসানের নেতৃত্বে বহুবার বৃহৎ পরিসরে চন্দ্রগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ মিছিল,সমাবেশ, এবং সুশৃংখল রাজনৈতিক কর্মসূচি।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ দলের দুর্দিনেও সাহসের প্রতীক শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নিবেদিত প্রাণ হিসেবে এখনো গণমানুষের হৃদয়ে স্থান কীর্তিমান হয়ে আছে।

বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী,পুলিশের হামলা, মামলা,গ্রেপ্তার ও বাড়ি ঘর বারবার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া এহেন হয়রানি সত্ত্বেও আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছু না হটা এক তরুণ বীর সৈনিক।
তার নামে একাধিক মিথ্যা মামলা হয়েছে,হয়রানির শিকার হয়েও ও অনেকেই রাজনৈতিক চাপে পড়ে সরে গেলেও জিসান কখনো দল ছেড়ে দেননি এবং নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহস মনোবল দিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে একনিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন।

⭕সাধারণ মানুষের ভালোবাসা:
জিসান শুধু একজন ছাত্রনেতাই ছিলেন না,তিনি ছিলেন এলাকার তরুণদের অনুপ্রেরণা। মানবিক কাজে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন৷তার মৃত্যুর কিছুদিন যেতে নাযেতেই পুত্রের শোক সইতে না পেরে মহান আল্লাহর ঢাকে সাঁড়া দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যু বরণ করেন শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসানের মমতাময়ী মা।

সোলায়মান উদ্দিন জিসান শুধুমাত্র একজন ছাত্রনেতাই ছিলেন না তিনি ছিলেন,চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার সাহসীকতার প্রতিচ্ছবি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার একবীর যোদ্ধা এবং তৃণমূলের আপসহীন কণ্ঠস্বর। তার মতো তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শক্তিশালী রাজনৈতিক সামাজিক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

চন্দ্রগঞ্জের ইতিহাসে যদি কোনো সাহসী ছাত্রনেতার নাম লেখা হয়—সোলায়মান উদ্দিন জিসান সবার উপরে থাকবে।
শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসান মৃত্যুর পরও সকল ধরনের রাজনৈতিক সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার শীর্ষে। শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসানের মৃত্যুর পর পরেই প্রতিষ্ঠিত হয় জিসান ফাউন্ডেশন নামক একটি মানবিক ফাউন্ডেশন এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সামাজিক,মানবিক,কল্যাণ মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসান ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান শহীদ সোলায়মান উদ্দিন জিসানের স্নেহের ছোট ভাই শামছুদ্দিন তুহিন।

শেয়ার এবং ফলো করুন: