রাজশাহী: ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতা এবং টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে এই কর্মশালা শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।
কর্মশালা পরিচালনা করেন সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক,আন্তর্জাতিক ডেস্কের ইন-চার্জ ও সংবাদ উপস্থাপক ওমর ইনান। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সময় টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার (নিউজ) রাফিউল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ডেস্কের কর্মকর্তা রবিউল আওলাদ, বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিউর রহমান, অধ্যাপক আ-আল মামুন প্রমুখ।
কর্মশালায় ওমর ইনান তাঁর বক্তব্যে ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক ও সময়ের সাথে এর পরিবর্তনের ধারা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে আমি সাংবাদিকতা করছি এবং সময়ের সাথে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার ফলে সাংবাদিকতার ধরনেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু ছাপা অক্ষরের খবর নয়, ফটোকার্ড, অ্যাপ-নির্ভর সাংবাদিকতা এবং ডেটা ও এক্সপ্লেইনার জার্নালিজমের মতো নতুন ধারার সূচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে হলে সাংবাদিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটা সময় ছিল যখন পত্রিকায় যা ছাপা হতো, আমরা তা-ই বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সিটিজেন জার্নালিজমের যুগে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি একটি উন্নত সার্চ ইঞ্জিনের মতো, যা আমাদের কাজে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। কারণ এর দেওয়া তথ্যে ভুল থাকতে পারে, যার ভুক্তভোগী আমি নিজেও। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা রাখা যেতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখন এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।’
সংবাদ উপস্থাপনার যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একজন উপস্থাপককে কেবল সংবাদ পড়লেই চলে না, তাকে সংবাদের গভীরে গিয়ে সহজ ভাষায় দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। কণ্ঠস্বরের সঠিক ব্যবহার, স্পষ্ট উচ্চারণ, সংবেদনশীলতা এবং দর্শকের সাথে সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা একজন সফল উপস্থাপকের মূল শক্তি।’
এছাড়াও ওমর ইনান কর্মশালায় টেলিভিশন নিউজরুমের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম, সংবাদ উপস্থাপনার কৌশল এবং রিপোর্টার ও ডেস্কের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সময় টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার (নিউজ) রাফিউল ইসলাম সংবাদ উপস্থাপনে সময়ের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘একজন সংবাদ উপস্থাপক যখন ৫ মিনিট সময় নেন, তখন তিনি কেবল নিজের ৫ মিনিট ব্যয় করেন না, বরং পর্দায় তাকিয়ে থাকা কয়েক লাখ দর্শকের জীবন থেকেও ৫ মিনিট সময় নেন। এই বিপুল পরিমাণ সময়ের সদ্ব্যবহার করা তখন উপস্থাপকের দায়িত্ব হয়ে পড়ে।’
অনুষ্ঠানে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সময় টেলিভিশনের আন্তজার্তিক ডেস্কের কর্মকর্তা রবিউল আওলাদ বলেন, ‘এখন সামাজিক মাধ্যম থেকে হরহামেশাই ভিডিও সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের আগে ফ্যাক্ট-চেকিং অত্যাবশ্যক। আজ থেকে ১০ বছর পর গণমাধ্যমের প্রধান কাজ হবে ফ্যাক্ট-চেকিং। যারা এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে ইতিমধ্যেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের কেউ কেউ বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভাগে কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। বিভাগের সাবে শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম তাদের একজন। এবার রাফিউলের উদ্যোগে বিভাগের আয়োজনে আজকের এই কর্মশালা। খুবই সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে এবারের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী গণমাধ্যম, একাডেমিয়া, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করছেন আগামীতে বিভাগে তাদের পরিচালনায় এ রকম আরো কর্মশালা আয়োজন করা হবে। তাদের কেউ রাজশাহীতে কোনো কাজে এলে আমাদের আগাম জানানোর অনুরোধ রইল। তাহলে এ ধরনের আয়োজন করা তুলনামূলক সহজ হবে।
সভাপতি বলেন, বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও এ সকল ক্ষেত্রে অন্য যারা কাজ করছেন তাদের নিয়েও বিভাগে ওয়ার্কশপ, মতবিনিময়, আলোচনা, একক বক্তৃতার আয়োজন করতে চাই। এভাবে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নতুন চিন্তাধারা প্রবাহিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
কর্মশালায় প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বৈষম্য আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ইনান বলেন, ‘যোগ্যতা থাকলে কেউ আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। আত্মবিশ্বাস রাখুন এবং নিজের দক্ষতাকে প্রমাণ করুন, সুযোগ আসবেই।’
রাজশাহী: ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতা এবং টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে এই কর্মশালা শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।
কর্মশালা পরিচালনা করেন সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক,আন্তর্জাতিক ডেস্কের ইন-চার্জ ও সংবাদ উপস্থাপক ওমর ইনান। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সময় টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার (নিউজ) রাফিউল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ডেস্কের কর্মকর্তা রবিউল আওলাদ, বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিউর রহমান, অধ্যাপক আ-আল মামুন প্রমুখ।
কর্মশালায় ওমর ইনান বলেন ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক ও সময়ের সাথে এর পরিবর্তনের ধারা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে আমি সাংবাদিকতা করছি এবং সময়ের সাথে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার ফলে সাংবাদিকতার ধরনেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু ছাপা অক্ষরের খবর নয়, ফটোকার্ড, অ্যাপ-নির্ভর সাংবাদিকতা এবং ডেটা ও এক্সপ্লেইনার জার্নালিজমের মতো নতুন ধারার সূচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে হলে সাংবাদিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটা সময় ছিল যখন পত্রিকায় যা ছাপা হতো, আমরা তা-ই বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সিটিজেন জার্নালিজমের যুগে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি একটি উন্নত সার্চ ইঞ্জিনের মতো, যা আমাদের কাজে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। কারণ এর দেওয়া তথ্যে ভুল থাকতে পারে, যার ভুক্তভোগী আমি নিজেও। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা রাখা যেতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখন এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।’
সংবাদ উপস্থাপনার যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একজন উপস্থাপককে কেবল সংবাদ পড়লেই চলে না, তাকে সংবাদের গভীরে গিয়ে সহজ ভাষায় দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। কণ্ঠস্বরের সঠিক ব্যবহার, স্পষ্ট উচ্চারণ, সংবেদনশীলতা এবং দর্শকের সাথে সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা একজন সফল উপস্থাপকের মূল শক্তি।’
এছাড়াও ওমর ইনান কর্মশালায় টেলিভিশন নিউজরুমের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম, সংবাদ উপস্থাপনার কৌশল এবং রিপোর্টার ও ডেস্কের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সময় টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার (নিউজ) রাফিউল ইসলাম সংবাদ উপস্থাপনে সময়ের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘একজন সংবাদ উপস্থাপক যখন ৫ মিনিট সময় নেন, তখন তিনি কেবল নিজের ৫ মিনিট ব্যয় করেন না, বরং পর্দায় তাকিয়ে থাকা কয়েক লাখ দর্শকের জীবন থেকেও ৫ মিনিট সময় নেন। এই বিপুল পরিমাণ সময়ের সদ্ব্যবহার করা তখন উপস্থাপকের দায়িত্ব হয়ে পড়ে।’
অনুষ্ঠানে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সময় টেলিভিশনের আন্তজার্তিক ডেস্কের কর্মকর্তা রবিউল আওলাদ বলেন, ‘এখন সামাজিক মাধ্যম থেকে হরহামেশাই ভিডিও সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের আগে ফ্যাক্ট-চেকিং অত্যাবশ্যক। আজ থেকে ১০ বছর পর গণমাধ্যমের প্রধান কাজ হবে ফ্যাক্ট-চেকিং। যারা এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে ইতিমধ্যেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের কেউ কেউ বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভাগে কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। বিভাগের সাবে শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম তাদের একজন। এবার রাফিউলের উদ্যোগে বিভাগের আয়োজনে আজকের এই কর্মশালা। খুবই সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে এবারের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী গণমাধ্যম, একাডেমিয়া, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করছেন আগামীতে বিভাগে তাদের পরিচালনায় এ রকম আরো কর্মশালা আয়োজন করা হবে। তাদের কেউ রাজশাহীতে কোনো কাজে এলে আমাদের আগাম জানানোর অনুরোধ রইল। তাহলে এ ধরনের আয়োজন করা তুলনামূলক সহজ হবে।
সভাপতি বলেন, বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও এ সকল ক্ষেত্রে অন্য যারা কাজ করছেন তাদের নিয়েও বিভাগে ওয়ার্কশপ, মতবিনিময়, আলোচনা, একক বক্তৃতার আয়োজন করতে চাই। এভাবে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নতুন চিন্তাধারা প্রবাহিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
কর্মশালায় প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বৈষম্য আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ইনান বলেন, ‘যোগ্যতা থাকলে কেউ আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। আত্মবিশ্বাস রাখুন এবং নিজের দক্ষতাকে প্রমাণ করুন, সুযোগ আসবেই।’
রাজশাহী: ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতা এবং টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে এই কর্মশালা শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।
কর্মশালা পরিচালনা করেন সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক,আন্তর্জাতিক ডেস্কের ইন-চার্জ ও সংবাদ উপস্থাপক ওমর ইনান। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সময় টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার (নিউজ) রাফিউল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ডেস্কের কর্মকর্তা রবিউল আওলাদ, বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিউর রহমান, অধ্যাপক আ-আল মামুন প্রমুখ।
কর্মশালায় ওমর ইনান বলেন ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক ও সময়ের সাথে এর পরিবর্তনের ধারা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে আমি সাংবাদিকতা করছি এবং সময়ের সাথে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার ফলে সাংবাদিকতার ধরনেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু ছাপা অক্ষরের খবর নয়, ফটোকার্ড, অ্যাপ-নির্ভর সাংবাদিকতা এবং ডেটা ও এক্সপ্লেইনার জার্নালিজমের মতো নতুন ধারার সূচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে হলে সাংবাদিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটা সময় ছিল যখন পত্রিকায় যা ছাপা হতো, আমরা তা-ই বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সিটিজেন জার্নালিজমের যুগে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি একটি উন্নত সার্চ ইঞ্জিনের মতো, যা আমাদের কাজে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। কারণ এর দেওয়া তথ্যে ভুল থাকতে পারে, যার ভুক্তভোগী আমি নিজেও। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা রাখা যেতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখন এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ উপস্থাপনার যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একজন উপস্থাপককে কেবল সংবাদ পড়লেই চলে না, তাকে সংবাদের গভীরে গিয়ে সহজ ভাষায় দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। কণ্ঠস্বরের সঠিক ব্যবহার, স্পষ্ট উচ্চারণ, সংবেদনশীলতা এবং দর্শকের সাথে সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা একজন সফল উপস্থাপকের মূল শক্তি।
এছাড়াও ওমর ইনান কর্মশালায় টেলিভিশন নিউজরুমের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম, সংবাদ উপস্থাপনার কৌশল এবং রিপোর্টার ও ডেস্কের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সময় টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার (নিউজ) রাফিউল ইসলাম সংবাদ উপস্থাপনে সময়ের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘একজন সংবাদ উপস্থাপক যখন ৫ মিনিট সময় নেন, তখন তিনি কেবল নিজের ৫ মিনিট ব্যয় করেন না, বরং পর্দায় তাকিয়ে থাকা কয়েক লাখ দর্শকের জীবন থেকেও ৫ মিনিট সময় নেন। এই বিপুল পরিমাণ সময়ের সদ্ব্যবহার করা তখন উপস্থাপকের দায়িত্ব হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সময় টেলিভিশনের আন্তজার্তিক ডেস্কের কর্মকর্তা রবিউল আওলাদ বলেন, ‘এখন সামাজিক মাধ্যম থেকে হরহামেশাই ভিডিও সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের আগে ফ্যাক্ট-চেকিং অত্যাবশ্যক। আজ থেকে ১০ বছর পর গণমাধ্যমের প্রধান কাজ হবে ফ্যাক্ট-চেকিং। যারা এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে ইতিমধ্যেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের কেউ কেউ বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভাগে কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। বিভাগের সাবে শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম তাদের একজন। এবার রাফিউলের উদ্যোগে বিভাগের আয়োজনে আজকের এই কর্মশালা।খুবই সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে এবারের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী গণমাধ্যম, একাডেমিয়া, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করছেন আগামীতে বিভাগে তাদের পরিচালনায় এ রকম আরো কর্মশালা আয়োজন করা হবে। তাদের কেউ রাজশাহীতে কোনো কাজে এলে আমাদের আগাম জানানোর অনুরোধ রইল। তাহলে এ ধরনের আয়োজন করা তুলনামূলক সহজ হবে।
সভাপতি বলেন, বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও এ সকল ক্ষেত্রে অন্য যারা কাজ করছেন তাদের নিয়েও বিভাগে ওয়ার্কশপ, মতবিনিময়, আলোচনা, একক বক্তৃতার আয়োজন করতে চাই। এভাবে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নতুন চিন্তাধারা প্রবাহিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
কর্মশালায় প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বৈষম্য আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ইনান বলেন যোগ্যতা থাকলে কেউ আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। আত্মবিশ্বাস রাখুন এবং নিজের দক্ষতাকে প্রমাণ করুন সুযোগ আসবেই।
