চন্দ্রগঞ্জের পাঁচ মাদককারবারি ২৮ কেজি গাঁজাসহ র‍্যাবের অভিযানে আটক

আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুর:
দেশের মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে আবারও বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‍্যাব। চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি বিশেষ অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচজন চিহ্নিত মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করেছে elite বাহিনীটি।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়-একদল মাদককারবারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহন করছে। তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে র‍্যাব-৭ এর একটি চৌকস টিম জোরারগঞ্জ থানাধীন বারৈয়াহাট পৌরসভার খানসিটি সেন্টারের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে।

রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে গাড়িচালক র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করে। তবে র‍্যাব সদস্যদের ধাওয়া, কৌশল ও দক্ষতায় অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। থামানো হয় মাইক্রোবাসটি, গ্রেফতার করা হয় ভেতরে থাকা পাঁচ যুবককে।

আটককৃতরা হলেন-
১. ইয়াছিন আরাফাত (২৬), পিতা: আব্দুল খালেক, গ্রাম: বসুদুহিতা৷
২. মোঃ মিঠু (২৮), পিতা: বেলাল হোসেন, গ্রাম: বসুদুহিতা৷
৩. মোঃ জসিম উদ্দিন (৩৯), পিতা: জয়নাল আবেদীন, রামকৃষ্ণপুর৷
৪. মোঃ রাজিব (২৭), পিতা: ইসমাইল হোসেন, গ্রাম: পশ্চিম লতিফপুর৷
৫. মোঃ শুভ (২৪), পিতা: অজিউল্লাহ, গ্রাম: দেওপাড়া৷

পাঁচজনেরই বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে।

পরবর্তীতে মাইক্রোবাসের পেছনের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকানো দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে মোট ২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

র‍্যাব-৭ নিশ্চিত করেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি, উদ্ধারকৃত গাঁজা এবং জব্দকৃত মাইক্রোবাস আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি-আটককৃত পাঁচ মাদককারবারিকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে আসছে চন্দ্রগঞ্জ থানার সামনে এক প্রভাবশালী দালালচক্র। তাদের ইশারাতেই এলাকায় মাদক পরিবহন, বেচাকেনা ও রুট নির্ধারণ করা হয়। তবে র‍্যাবের এই অভিযান মাদককারবারিদের সেই নেটওয়ার্কে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে র‍্যাব জানিয়েছে-মাদক চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের থামিয়ে দেবে। এই সফল অভিযান সেই অঙ্গীকারেরই আরেকটি দৃঢ় ঘোষণা।

শেয়ার এবং ফলো করুন: