আল মামুন শিপন-লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ আবারও সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে শিরোনামে।
শান্তিপূর্ণ জনজীবনের আবরণ ভেদ করে এলাকায় ফিরে এসেছে পুরোনো সন্ত্রাসের ছায়া। গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে,যাকে স্থানীয়রা ‘মাটি জহির’ নামে চিনতেন।
তিনি ছিলেন ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ০৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক৷
গ্রেপ্তার ও আইনি অগ্রগতি
সোমবার (১৭ নভেম্বর) তিন এজাহারভুক্ত আসামি-
হুমায়ুন কবির সেলিম (০৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি), ইমন, আলমগীর৷
তাদেরকে কোর্টে সোপর্দ করলে আদালত লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে সন্দিগ্ধ আসামি ওমর ফারুককেও চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ আদালতে চালান দেয়। আদালত তাকেও জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি- নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সন্ত্রাসের জনপদে ফের রক্তাক্ত বিভীষিকা
কখনো সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রগঞ্জ গত কয়েক বছর ছিল বেশ শান্ত। তবে শনিবার রাতের এই হত্যাকাণ্ড আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো এলাকায়।
সন্ধ্যা নামতেই ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা মাটি জহিরকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা চাপাতি, কুঠার ও চোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
চলচ্চিত্রের দৃশ্যও হার মানায় এমন নৃশংসতা।
গ্রামবাসীরা ভয় ও বিভীষিকায় কেউই এগিয়ে আসতে পারেনি।
একজন মানুষের শেষ চিৎকার গ্রাস করে নেয় পুরো গ্রামের রাতের নীরবতা।
মামলায় ১৩ জনের নাম
হত্যাকাণ্ডের পরদিন সোমবার নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার চন্দ্রগঞ্জ থানায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিম লতিফপুর ও আশপাশের গ্রাম এখন প্রায় ফাঁকা।
ঘরে-ঘরে বিরাজ করছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং অনিশ্চয়তা।
র্যাবের কড়া নজরদারি
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় র্যাব-১১ ও পুলিশ টহল জোরদার করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
এলাকা থেকে কারও পালিয়ে যাওয়া, অথবা নতুন কোনো সহিংসতা-দুটোই রোধ করতে কঠোর নজরদারি চলছে।
নিহতের স্ত্রীর আর্তনাদ
স্বামী হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়া আইরিন আক্তার বলেন-
পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের লক্ষ্যে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
তার শোকাকুল আর্তনাদ যেন প্রতিফলিত করছে পুরো জনপদের প্রশ্ন-
এই সহিংসতার শেষ কোথায়?
