আল মামুন শিপন,লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১২ নং চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক ও সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে নাগরিক সেবা ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও বিভিন্ন সরকারি ভাতা পাওয়ার মতো জরুরি সেবা পেতে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বহিষ্কার করে।
এরপর জনসেবা সচল রাখতে ইউনিয়নগুলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে চরশাহী ইউনিয়নে প্রশাসকের অনুপস্থিতি ও উদাসীনতায় স্থানীয় সেবা ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসকের সপ্তাহে অন্তত দু’দিন অফিসে আসার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
দূর-দূরান্ত থেকে এসে দিনভর অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।
একই পরিষদের সচিব হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধেও রয়েছে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিস্তর অভিযোগ। তিনি চরশাহী ছাড়াও অন্য আরেকটি ইউনিয়নে সচিবের দায়িত্বে থাকায় প্রায়ই এই পরিষদে আসেন না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জাকির হোসেন বলেন,আমার নিজস্ব বিভাগীয় মূল দায়িত্বের পাশাপাশি এটি অতিরিক্ত দায়িত্ব। চলতি মাসে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ডিউটি থাকার কারণে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছি না। তবে ডিজিটাল সেন্টার ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কেউ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন না। তবে প্রশাসকের এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় সাধারণ জনগণ। তারা দ্রুত ইউনিয়নে সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীল প্রশাসক ও সক্রিয় সচিব নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে জনভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
