সরকারি নথিতে কাজ ‘১০০% সম্পন্ন’, সরেজমিনে দেখা নেই গার্ড ওয়ালের- স্থানীয়দের ক্ষোভ…
কবির আহমদ ফারুক:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ১২নং চরশাহী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের একটি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের রামপুর ইদ্রীস ব্যাপারী বাড়ির দরজা থেকে পূর্ব দিকে রাস্তার পাশে পুকুর পাড়ে গার্ড ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবে না করেই বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (বিবিজি-২য় কিস্তি) এর আওতায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য মোট ২,০০,০০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ শেষ হওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল ১৭ জুন ২০২৫।
প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন ৮নং ওয়ার্ড সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি একই সঙ্গে চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাম রয়েছে মেসার্স রিপন এন্টারপ্রাইজ, সদর, লক্ষ্মীপুর।
সাচিবিক সহযোগিতা করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান।
সরকারি নথিতে দাবি করা হয়েছে- প্রকল্পের কাজ ‘১০০% সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে’। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই স্থানে কোনো গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তা সংলগ্ন পুকুর পাড় আগের মতোই অপরিকল্পিত ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের ‘কাগজে কাজ’ দেখানোর ঘটনা নতুন নয়। বাস্তবে কাজ না করেও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তোলা হয়।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্ত করে প্রকল্পের অর্থ ফেরত আদায় ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে সরকারি উন্নয়ন তহবিলের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।
