লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৫০ মিটার সিসি সড়কের বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার থেকে নোয়াখালীর চাটখিল সড়কের আফজাল রোডের ওই অংশের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকলেও প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত ১৫০ মিটার সড়কের অর্ধেক কাজ ৬ মাসেও শেষ হয়নি।
নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ,আবার কোথাও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অথচ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন ও পরিশোধের ঘটনা ঘটলে তা প্রকল্প বাস্তবায়নের নিয়ম ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিনের খানাখন্দ ও অসমাপ্ত অংশের কারণে পথচারীদের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী দূর্ঘটনার শিকার হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্ষা বা বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন-নির্ধারিত কাজ শেষ না হলে কীভাবে প্রকল্পের বিল উত্তোলন বা পরিশোধ হলো? কাজের মান ও অগ্রগতি যাচাই না করেই কি বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে প্রকল্পের নথিপত্র, কাজের পরিমাপ, বিল-ভাউচার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তদারকি প্রতিবেদন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সাব-ঠিকাদার ও লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাহিন আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে সাংবাদিককে জানান। একইভাবে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তিনিও অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজে সাংবাদিককে অফিসে চায়ের আমন্ত্রণ জানান।
তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন ও পরিশোধের অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্যে অভিযোগটির নিষ্পত্তি হয়নি-এমন দাবি স্থানীয়দের। তাদের মতে, মৌখিক বক্তব্যের পরিবর্তে প্রকল্পের সরকারি নথি, বিল পরিশোধের তথ্য, কাজের পরিমাপ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও বিল পরিশোধের বিষয়টি তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে অসমাপ্ত ১৫০ মিটার সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এখন প্রশ্ন উঠেছে-কাজ শেষ না হলে বিল গেল কোথায়, আর সেই বিল ছাড়ের আগে প্রকল্পটি কে বা কারা যাচাই করেছিলেন? তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে অভিযোগের প্রকৃত সত্য।
